আমাদের রাজ্যে পাঁচ কিলোমিটার অন্তর ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি বদলে যায়! আমি চাইব, যিনি রাজ্য চালাবেন তিনি যেন এই সব কিছুকে সমান মান্যতা দেন- দেবেশ চট্টোপাধ্যায়

সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরলেন দেবেশ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, একজন ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে রাজ্যের বৈচিত্র্যকে বুঝতে হবে এবং সব সংস্কৃতিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের সমাজে যেমন নানা রকম পার্থক্য রয়েছে, তেমনই সেই পার্থক্যের মধ্যেই একতা খুঁজে পাওয়া জরুরি। এই বৈচিত্র্যের মর্যাদা দিতে পারলেই একজন নেতা প্রকৃত অর্থে মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে পারবেন।

ভোটের ক্ষেত্রে তিনি স্পষ্ট জানালেন, তিনি দল দেখে ভোট দেন। তবে প্রার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, নির্বাচনে জেতার পরেও বিধায়কদের প্রশিক্ষণ থাকা দরকার, যাতে তারা নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে বুঝতে পারেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে ভাষার ব্যবহার নিয়েও সংযম জরুরি এবং অপশব্দের ব্যবহার বন্ধ হওয়া উচিত।

নিজে যদি কখনও বিধায়ক হন, তাহলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চান দেবেশ। তাঁর কথায়, বায়ুদূষণ থেকে শুরু করে নানা ধরনের দূষণ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও যথেষ্ট নজর দেওয়া হচ্ছে না, যা একটি শহরের পরিচয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি রুখতে হলে টাকা, ক্ষমতা এবং হিংসার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ঘন ঘন দলবদল নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, যে দলের হয়ে জিতে আসা হয়, সেই দল বদল করলে নির্বাচিত পদও বাতিল হওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, বিরোধীহীন রাজনীতি কখনও সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ একটার পর একটা ধাক্কা! কয়েকদিন আগেই হারিয়েছেন স্বামীকে, তাঁর চিকিৎসার খরচেই এখন প্রায় সর্বস্বান্ত! রাহুলের আকস্মিক মৃ’ত্যুতে বন্ধ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’! সামনেই মেয়ের বিয়ে, হঠাৎ একমাত্র কাজ চলে যাওয়াতে দুশ্চিন্তায় সোমাশ্রী চাকি?

ভাতা নির্ভর রাজনীতি নিয়ে তিনি দু’দিকের যুক্তিই তুলে ধরেন। তাঁর মতে, মানুষের হাতে অর্থ গেলে তা অর্থনীতিকে সচল করতে পারে, তবে অতিরিক্ত নির্ভরতা কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। সবশেষে তিনি বলেন, রাজনীতিতে পরিচিত মুখদের ব্যবহার ভোট টানতে সাহায্য করে। আর তাঁর পছন্দের রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন মহাত্মা গান্ধী-র নাম, যাঁর আদর্শ এখনও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি।

You cannot copy content of this page